Home / জাতীয় / আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকেই দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করছে-প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা…

আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকেই দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করছে-প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা…

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকেই দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করছে।বার বার আঘাত এসেছে এই কারণে আওয়ামী লীগের ওপর।আওয়ামী লীগের নাম এখনও সমুজ্জল বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জনের ইতিহাসে।আওয়ামী লীগের শিকড় এতই গভীরে প্রথিত যে,কেউ উপড়ে ফেলতে পারেনি শত ষড়যন্ত্র করেও,আওয়ামী লীগ ততই শক্তিশালী হয়েছে,যতবার আঘাত এসেছে,ভাঙ্গার চেষ্টা করা হয়েছে,আওয়ামী লীগের ওপর।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গত ৭০ বছরের ইতিহাসে উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলের নাম। তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান-বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার জন্য। সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন,দেশের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায়,গতকাল সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর কাছ থেকে বিএনপি-জামায়াত জোটের বিশ্বাস-আস্থা হারিয়ে ফেলার কারণ তুলে ধরে বলেন,খালেদা জিয়ার দল মাত্র ২৯টি আসন পায়,ওয়ান ইলেভেনের পর ২০০৯ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে।ক্ষমতায় থাকতে বল্লাহীন দুর্নীতি,গ্রেনেড হামলা,জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি,হাওয়া ভবনের নামে দেশের মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার,দুঃশাসন এবং মানুষের সম্পদ লুট করে খাওয়ার ঘটনায় দেশের মানুষ বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রতি অতিষ্ট ছিল। তাদের প্রত্যাখ্যান করে তাই তারা নির্বাচনে।শেখ হাসিনা বলেন-আওয়ামী লীগের জন্মদিনে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে,বারবার আঘাত ও নির্যাতনের পরও দল শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসার কারণেই।আওয়ামী লীগ দিনে দিনে যে ভাবে শক্তিশালী হচ্ছে, তা ধরে রাখতে দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে মুজিবাদর্শে দিক্ষিত হতে হবে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাবলেন,দেশের মানুষের কল্যাণ,মুক্তি,স্বাধীনতা ও সকল অর্জনের ইতিহাস জড়িত আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সঙ্গে।আওয়ামী লীগের বিপুল নেতাকর্মীর বিশাল আত্মত্যাগ রয়েছে দেশের জন্য।দেশ ও দেশের মানুষের জন্য এতো আত্মত্যাগ নেই অন্য কোন রাজনৈতিক দলের।বার বার আঘাত ও ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করতে।হীরের টুকরার মতো হচ্ছে আওয়ামী লীগ।আঘাত এসেছে যতবেশি ঘুরে দাঁড়িয়েছে ততবার।বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে,পচাঁত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পর থেকে।আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়নি শত আঘাতেও।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে গেছে গত ১০ বছরে।বাংলাদেশ এখন সম্মান পাচ্ছেসারাবিশ্বে, স্বীকৃতি পাচ্ছে উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে।দারিদ্র্যের হার ৪১ ভাগ থেকে  আমরা নামিয়ে এনেছি ২১ ভাগে।এখন দারিদ্র্যের হার ১৭/১৮ ভাগের মতো রয়েছে অনেক উন্নত দেশে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাআবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,যখন দেশের একেকটা অর্জন হয়,মনে হয় নিশ্চয় আমার বাবা (বঙ্গবন্ধু) বেহেস্ত থেকে দেখছেন।বাংলাদেশের এখন কেউ আর না খেয়ে থাকে না তিনি দেখছেন,ছেঁড়া কাপড় পরে চলে না কেউ।  গৃহহীন থাকবে না দেশের একটি মানুষ,থাকবে না-না খেয়ে।কারণ আমি মনে করি,বঙ্গবন্ধুর আত্মা কষ্ট পাবে,দেশের একটি মানুষ কষ্ট পেলে।প্রধানমন্ত্রী বলেন-বার বার দেশসেবার সুযোগ প্রদানের জন্য ভোটারসহ দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে,কৃতজ্ঞতা জানাই দেশের মানুষের প্রতি।আমাদের ওপর আস্থা-বিশ্বাস রেখেছে তারা।নির্বাচনে ভোট দিয়ে আমাদের দেশ সেবার সুযোগ দিয়েছে বার বার।আমরা দেশের এতো উন্নয়ন করতে পেরেছিসরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে বলেই।তাই আমরা কোনো অহমিকা করবো না,দেশের মানুষ সারাবিশ্বে যেন মাথা উঁচু করে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে,আমাদের একমাত্র লক্ষ্যসেটাই।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,আমরা দেশকে শুধু উন্নতিই করছি না,শত বছরের পরিকল্পনা দিয়েছি আমরা।আগামী একশ’বছরের জন্য ডেল্টা প্লান দিয়েছি।আমরা ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী,২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তি পালন করবো।আমরা কেউ বেঁচে থাকবো না।তবুও আগামী প্রজন্মের জন্য ও দেশের উন্নয়নে আমরা একশ বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলবোই আমরা।

আলোচনায় অংশ নেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে-আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ এমপি ও দক্ষিণের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত। সূচনা বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন আলোচনা সভা পরিচালনা করেন।

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেন,আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য আমার জীবনে সবচেয়ে বড় পরিচয়।পঁচাত্তরের পর,২০০১ সালের পর এবং ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে অনেকে নীরব ছিলেন,শেখ হাসিনার পাশে ছিলামআমি।পাশে ছিলেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা।মোহাম্মদ নাসিম বলেন,বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করে,১৯৬৬-১৯৬৭ সালে আমি তখন ছাত্র ইউনিয়ন করতাম।একদিন বঙ্গবন্ধু পাবনায় আমাদের বাসায় আসলেন ছয় দফা দেওয়ার পর।বঙ্গবন্ধু বললেন-বাবা শহীদ এম মনসুর আলীকে,কোথায় নাসিম?বঙ্গবন্ধু বললেন,আমি কাছে যেতেই,ছাত্র ইউনিয়ন করিস মুনসুর আলীর সন্তান হয়ে।ছাত্রলীগ করবি আজ থেকে।ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হই তখন থেকেই।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন,শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে দল করতে হলে।সবার মনে থাকেযেনএটা।তিনি আরো বলেন নেতাকর্মীদেরউদ্দেশে,একজন রাজনীতিকের জীবনে মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কিছু নেই মনে রাখবেন।এগিয়ে চলেছি-সাহস ও সততা নিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে।আমরা আগামী দিনেও এগিয়ে যাব,আমাদের নেত্রীর সততাকে সম্বল করে।নির্বাচনের আগে দলের পক্ষ থেকে যে ইশতেহার দিয়েছিল তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব,আমরা আজ শপথ নেব।ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়ন করব আমরা।

(বি:দ্র: ছবি-তথ্য বাসস থেকে সংগ্রহকরা)

About admin

Check Also

উপনির্বাচন-ভোটগ্রহণ চলছে ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে।।

অনলাইন ডেস্ক :     আজ বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে উপনির্বাচনে।ভোটগ্রহণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *