Home / জাতীয় / আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।।

আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।।

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে, বাংলাদেশকে আর কেউ যেন খাটো করে দেখতে না পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা দেশকে বিশ্বের কাছে মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছি। বিশ্বে যেন বাংলাদেশ একটা মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে সেটাই আমাদের লক্ষ্য।মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তারা আমাদের উপর আস্থা রেখেছেন, বিশ্বাস রেখেছেন। তারা ভোট দিয়েছেন বলেই আজ সেবা করার সুযোগ পাচ্ছি। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলীয় নেতাকর্মী, বিচারক এবং বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের শুরুতে এসব কথা বলেন তিনি।ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিরে গিয়েছিলেন ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে। নিজের পরিবারে স্মৃতিচারণ আর ১৫ আগস্টের ভয়াবহতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনেও বঙ্গবন্ধু জীবিত ছিলেন। আমরা দু’বোন সেসময় বিদেশে ছিলাম। তার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল ১৩ আগস্ট। এরপর আর কথা হয়নি। এরপরই নিঃস্ব হই আমি আর আমার ছোট বোন।

বক্তব্যের শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, ১৫ আগস্টের শহীদ, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৩০ লাখ মানুষ, সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ মা-বোন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর নিহত জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ১৫ আগস্ট নিহত তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া চান।এ সময় তিনি যারা হজ করতে গেছেন তাদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান। দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদেরও ঈদের শুভেচ্ছা জানান। সেইসঙ্গে সবার দোয়া চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি নিজের চোখের ছানি অপারেশনসহ নানা প্রসঙ্গ টেনে সবার দোয়া চান।

বাংলাদেশের সব মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের দারিদ্রতার হার কমেছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে। আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই।যারা স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে বেঁচে আছেন তারাই বুঝবেন আমার কষ্ট। আমি নিজেকে উৎসর্গ করেছি বাংলার মানুষের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার জন্য। সবসময় মনে হয়, বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকলে আমার বাবা-মার আত্মা খুশি হবে।

তিনি বলেন, আপনরা দোয়া করবেন। যে পবিত্র দায়িত্ব জনগণ আমার হাতে তুলে দিয়েছে আমি যেন সেই দায়িত্ব পালন করতে পারি। যত কষ্টই থাকুক সবাইকে ত্যাগের মহিমা নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে আহ্বান জানান তিনি। শুধু দেশের মানষ না মুসলিম উম্মার প্রতিও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।এর আগে বেলা ১১টার দিকে গণভবনে সমবেত দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণের সামনে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ পরিবারের সদস্যরাও তার সঙ্গে ছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগ নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মী, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক ও বুদ্বিজীবী এবং সকল শ্রেণি ও পেশার জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর একই স্থানে সকাল ১১টা থেকে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন-বিচারক,মন্ত্রিপরিষদ সচিব,তিন বাহিনী প্রধান,বিদেশি কূটনীতিক,সিনিয়র সচিব এবং সচিব মর্যাদার অন্যান্য বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে।

(বি:দ্র: ছবি-তথ্য সংগ্রহকরা)

About admin

Check Also

সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ।।

অনলাইন ডেস্ক :    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *