Home / বিনোদন / আমের যত পুষ্টি গুন …

আমের যত পুষ্টি গুন …

অনলাইন ডেস্ক: ছবি:এবং তথ্য – মিনহাজ আহমেদ মাসুম,মহিলা বিষয়ক সম্পাদক-দক্ষিন বনস্রী প্লট মালিক কল্যাণ সমিতি।

*আমের বাংলা নাম-আম,

*আমের ইংরেজি নাম-Mango,

*আমের বৈজ্ঞানিক নাম-Mangifera indica,

আমের পুষ্টিগুণ-স্বাদে,পুষ্টিতে ও গণ্ধে আম অতুলনীয়।তাই আমকে বলা হয় ফলের রাজা।আমে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’বা ক্যারোটিন,ভিটামিন ‘সি’ খনিজ পদার্থ ও ক্যালোরি রয়েছে।ভিটামিন ‘এ’এর দিক থেকে আমের স্থান পৃথিবীর প্রায় সব ফলেরই উপরে।

আমের উপকারিতা-আম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন ও ক্যালরি।উদ্ভিজ্জ উপাদান থেকে সরাসরি ভিটামিন পাওয়া যায় না,বিটা-ক্যারোটিন ভিটামিন এ’র কাজ করে।এছাড়া রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি,যা শরীরে শক্তি তৈরি করে।আমের আয়রন,আঁশ,পটাশিয়াম,ভিটামিন সি ও খনিজ উপাদান শরীর সুস্থ সবল রাখতে সাহায্য করে।ক্যারোটিন চোখ সুস্থ রাখে, সর্দি-কাশি দূর করে।কাঁচাআমে ৯০ মাইক্রোগ্রাম এবং পাকাআমে ৮,৩০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন থাকে।আম কর্মশক্তি যোগায়।এতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচাআম ৪৪ কিলোক্যালোরি ও পাকাআমে ১০ ক্যালরি শক্তি প্রদান করে।আরও আছে আয়রন যা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে।কাঁচাআমে ৫.৪ ও পাকাআমে ১.৩ মি.গ্রা আয়রন পাওয়া যায়।ক্যালসিয়াম হাড় সুগঠিত করে,হাড় ও দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখে।কাঁচাআমে ১০ মি.গ্রা ও পাকাআমে ১৬ মি.গ্রা ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।আম থেকে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।ভিটামিন সি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে।দাঁত,মাড়ি,ত্বক ও হাড়ের সুস্থতা রক্ষা করতেও সাহায্য করে ভিটামিন সি।প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচাআমে ৬৩ মি.গ্রা ও পাকাআমে ৪১ মি.গ্রা ভিটামিন সি পাওয়া যায়,আমে রয়েছে ভিটামিন বি-১ ও বি-২। কাঁচাআমে ০.০৪ মি.গ্রা ও পাকাআমে ০.১ মি.গ্রা ভিটামিন বি-১ পাওয়া যায়। কাঁচাআমে ০.০১ মি.গ্রা ও পাকাআমে ০.০৭ মি.গ্রা বি-২ রয়েছে।বিভিন্ন খনিজ উপাদানের উৎসও আম। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা ও পাকা আমে ০.৫ গ্রাম খনিজ লবণ থাকে।আমে কিছু পরিমাণে প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচাআমে ০.৭ গ্রাম প্রোটিন ও ০.২ গ্রাম ফ্যাট থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকাআমে ১ গ্রাম প্রোটিন ও ০.৭ গ্রাম ফ্যাট থাকে।আমে রয়েছে শ্বেতসার। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচাআমে ১০.১ গ্রাম শ্বেতসার ও প্রতি ১০০ গ্রাম পাকাআমে ২০.০০ গ্রাম শ্বেতসার পাওয়া যায়।আমে বিদ্যমান পটাশিয়াম রক্তস্বল্পতা দূর করে ও হৃদযন্ত্র সচল রাখতে সাহায্য করে। এই ফলের আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ যা হজমে সহায়তা করে।এছাড়াও ক্যারোটিন, আইসো-কেরোটিন, এস্ট্রাগ্যালিন, ফিসেটিন, গ্যালিক এসিড ইত্যাদি এনজাইম ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।আম কোলন ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, রক্তস্বল্পতা ও প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।আমের ভিটামিন সি ত্বকের লোমকূপ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, যা ব্রণের ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। তাছাড়া আম ত্বক উজ্জ্বল করতেও সাহায্য করে।

“পাকাআম আঁশসহ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়”

পাকাআম রক্তে কোলেস্টেরলের ক্ষতিকর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ঘামের কারণে শরীর থেকে সোডিয়াম বের হয়ে যায়। কাঁচাআম খেয়ে শরীরের সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।কাঁচাআমের পেকটিন গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগের চিকিত্সায় অত্যন্ত উপকারী।কাঁচাআমের ভিটামিন সি রক্তনালীসমূহের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে এবং নতুন রক্ত কনিকা গঠনে সাহায্য করে। এতে করে যক্ষা, রক্তস্বল্পতা ও কলেরা রোগের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

আমের ঔষধিগুন-আয়ুর্বেদ ও ইউনানি পদ্ধতির চিকিৎসায় পাকা ফল ল্যাকজেটিভ, রোচক ও টনিক বা বলকারকরূপে ব্যবহৃত হয়। রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে পাকা আম এমনকি কাঁচা আম মহৌষধ। কচি পাতার রস দাঁতের ব্যাথা উপশমকারী। আমের শুকনো মুকুল পাতলা পায়খানা, পুরনো অমাশয় এবং প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রনা উপশম করে। জ্বর, বুকের ব্যথা, বহুমূত্র রোগের জন্য আমের পাতার চূর্ণ ব্যবহৃত হয়।

About admin

Check Also

বনানী কবরস্থানে দাফন করা হলো সদ্য প্রয়াত অভিনেতা শাহীন আলমকে।।

অনলাইন ডেস্ক :    সদ্য প্রয়াত অভিনেতা শাহীন আলমকে ঘণ্টা খানেকে অপেক্ষার পর বনানী কবরস্থানেই দাফন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *