Home / জাতীয় / এখন থেকে দশ বছর পর বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হবে-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা…

এখন থেকে দশ বছর পর বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হবে-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা…

অনলাইন ডেস্ক: টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে এবং ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী অথবা অপেক্ষাকৃত দুর্বল অর্থনীতির মূল উদ্বেগ নিরসনের লক্ষ্যে পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাবলেছেন,শুধু কয়েকটি বৃহৎ অর্থনীতির সক্ষমতা অথবা তাদের প্রয়োজনের আঙ্গিকেই সবকিছু দেখি আমরা মাঝেমধ্যে।কিন্তু টেকসই বিশ্বের জন্য আমাদেরকে অবশ্যই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীসমূহের অথবা উপায়ও বের করতে হবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল অর্থনীতিগুলোর মূল উদ্বেগ নিরসনের।ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এর বার্ষিক সভায় অংশ নিতে এখন চীনের দালিয়ান শহরে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ডব্লিউইএফ-এর সভায় ‘কো-অপারেশন ইন দ্য প্যাসিফিক রিম’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণকালে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন মঙ্গলবার বিকেলে।

বলেন-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী ও দুর্বল অর্থনীতিকে মাথায় রেখেই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যে কোন পদক্ষেপ নিতে হবে-আমার পাঁচ দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আমাকে বলছে।প্রথমত,এগুলো হচ্ছে,পারস্পারিক শান্তি-সম্প্রীতি স্থিতিশীলতার পরিবেশ সৃষ্টি দেশগুলোর মধ্যে।দ্বিতীয়ত: সব দিকে দৃষ্টি দিতে হবে টেকসই উন্নয়নের।তৃতীয়ত: সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে দেশগুলোর পারস্পারিক স্বার্থে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে।চতুর্থত: সার্বিক উন্নয়ন করতে হবে সকলের জন্য সম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে।পঞ্চমত: পরিবেশ তৈরি করতে হবে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,যখন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১৯৯৬ সালে,বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ইস্যু ছিল ভারতের সাথে গঙ্গা নদীর পানি বন্টন করা।প্রধানমন্ত্রীবলেছেন,মিয়ানমার ও ভারতের সাথে আমাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত করেছি আমরা পারস্পারিক সমঝোতার ভিত্তিতে এবং যৌথভাবে কাজ করছে এখন বাংলাদেশ ও ভারত আন্তঃসীমান্ত নৌপথ উন্নয়নে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,সব সময় বিশ্বাস করেন তিনি,বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন ও যোগাযোগের মাধ্যমে এর ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে আয়তনের দিক দিয়ে ভারতের চেয়ে অনেক ছোট হওয়া সত্ত্বেও।প্রধানমন্ত্রীবলেছেন, একটি নীতিভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই আমরা।সবসময়ই জীবনের একটি অংশ ভূ-রাজনীতি।ইস্যুগুলোকে মূল্যায়ন করে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবেআমাদের সতর্কতার সাথে।দীর্ঘদিনের স্বার্থকে বিসর্জন দিতে পারি না আমরা স্বল্প সময়ের অর্জনের জন্য।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,এখনো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি সকল দেশের মধ্যে অভিন্ন সমৃদ্ধি নিশ্চিতে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল অঞ্চল বলে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত ইন্দো-প্যাসিফিক। একইভাবে,একটি উদীয়মান ও সমৃদ্ধ অঞ্চল বঙ্গোপসাগর।১.৫ বিলিয়ন লোকের বাস এই অঞ্চলে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে বঙ্গোপসাগরের আশপাশে বসবাসকারী মানুষের উন্নয়নের।বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলটিকে।প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেনপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে চীনের ঋণ প্রদান বিষয়ে,মোট জিডিপি’র ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ আমাদের বৈদেশিক ঋণ।শক্তিশালী অর্থনীতির একটি লক্ষণ এটা।আমাদের অবকাঠামোগত কিছু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে চীন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,নদীর উপর ৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার সেতু নির্মাণে চীনা কোম্পানি নিয়োগ করা হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ।বাংলাদেশ সরকার এর সম্পূর্ণ তহবিল যোগান দিচ্ছে।‘ঋণের ফাঁদ’নিয়ে কথা বলেনঅনেক মানুষ।সোজা কথা আমার।জনগণের স্বার্থ রয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত এই মেগা প্রকল্পগুলোয়,ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ এবং সঠিকভাবে এতদসংক্রান্ত আলোচনার অধিকার রয়েছে এবং এই নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কোন কারণ নেই আমাদের।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,অপর এক প্রশ্নের জবাবে,আমি চেষ্টা করেছি আমাদের সরকারের গত ১০ বছরে, বাংলাদেশকে তুলে ধরার জন্য আমাদের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন আকাঙ্খাকে বিশ্বময় আমাদের বন্ধুদের কাছে এক ভারসাম্যময় ও লক্ষ্যভিত্তিক উপায়ে।সবসময় এটা পরিষ্কার করে রেখেছি আমি,সামরিক কোন উচ্চাকাঙ্খার প্রশ্রয় দেয় না বাংলাদেশ।আমাদের মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিরোধী এটি।আমরা সাবলিলভাবে ভারত-চীন-জাপান-যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ-রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছি আমাদের সরকারের গত টার্মে (২০১৪-১৮)।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,প্রত্যেক বন্ধু রাষ্ট্রকেই প্রয়োজন এবং অবশ্যই কাউকে বাদ দিয়ে নয় একটি দ্রুত বিকাশমান অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের।দক্ষতা ও আগ্রহ রয়েছে আমাদের প্রতিটি বন্ধুর মাঝেই।আমরা যা কিছু অর্জন করবো,সবটুকুই জনগণের কল্যাণে আসবে আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হওয়ায়।শুধু মাত্র কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক,প্রাণের সম্পর্ক এটি আমাদের।প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,আমরা একসঙ্গে রক্ত দিয়েছি আমাদের স্বাধীনতার জন্য।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,বাংলাদেশের সম্পর্কও ভালো চীনের সঙ্গে।চীন আমাদের সঙ্গী আমাদের বিভিন্ন মেগা প্রকল্প ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে।শুধুমাত্র ওডিএ অংশিদার ছাড়াও,আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক জাপানের সঙ্গে।যারা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল রাশিয়াও আমাদের সঙ্গী,তিনি জানান-আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা খাতে সহায়তা করছে এখন তারা।প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনা বলেছেন,বাংলাদেশের আরসিইপি-এ (রিজিওনাল কমপ্রেহেন্সিভ ইকোনোমিক পার্টনারশিপ) অথবা সিপিটিপিপি (কমপ্রেহেন্সিভ এন্ড প্রগ্রেসিভ এগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ) যোগদান সম্ভাব্য সম্পর্কে,দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ছিল অন্যতম দ্রুত অর্থনীতি উদারিকরণের দেশ মধ্য ৯০-এর দশকে।

এলডিসি এবং ছোট অর্থনীতি রাষ্ট্র ছিলাম আমরা তখন।আমরা উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছি ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা সত্ব্যেও। উপলব্ধি করেছি আমরা,আশেপাশের দেশগুলোর সাথে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বিশ্বের সাথে দ্রুত যোগাযোগ রক্ষাটা জরুরি ভবিষ্যত বাংলাদেশের জন্য।বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হবে এখন থেকে দশ বছর পর।আমরা সংশোধন করতে প্রস্তুত এর জন্য আমাদের দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা।আমরা উন্মুক্ত আঞ্চলিকতার পক্ষে।

(বি:দ্র: ফাইল ছবি -তথ্য সংগ্রহকরা)

About admin

Check Also

উপনির্বাচন-ভোটগ্রহণ চলছে ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে।।

অনলাইন ডেস্ক :     আজ বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে উপনির্বাচনে।ভোটগ্রহণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *