Home / রাজনীতি / গণতান্ত্রিক রাজনীতি আর যুদ্ধ একসাথে এক জায়গায় অবস্থান করতে পারে না-ববি হাজ্জাজ ।।

গণতান্ত্রিক রাজনীতি আর যুদ্ধ একসাথে এক জায়গায় অবস্থান করতে পারে না-ববি হাজ্জাজ ।।

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেক উল্লেখযোগ্য তারিখ রয়েছে, যেমন ২৬শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বর, ১৫ই আগস্ট, ১/১১, ইত্যাদি, যেই দিনগুলোর ঘটনার প্রভাব আজ অব্দি আমরা জাতিগতভাবে অনুভব করি। ঠিক তেমনি উল্লেখযোগ্য একটা তারিখ ২১শে অগাস্ট । ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বকে পুরোপুরি বিলীন করে দেবার নৃশংস নোংরা প্রচেষ্টার এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মোড় পাল্টে দেয়।

একাত্তর সালে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আমরা জাতীয় রাজনীতিতে অনেক দাঙ্গা, অনেক কলহ দেখেছি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও অনেক ঘটেছে যার মধ্যে সবচেয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছিল ১৯৭৫ সালে, তারপর ১৯৮১ সালেও আরেক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, কিন্তু এর আগে কখনোই এক একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব কে পুরোপুরি ভাবে বিলীন করে দেবার প্রচেষ্টা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির পক্ষ থেকে আসেনি। এদেশের রাজনীতি ২১শে আগস্টের আগে ছিল মাঠে আন্দোলনের রাজনীতি, ছিল রাজনৈতিক কর্মীদের মাঠ পর্যায়ে রাজনৈতিক লড়াইয়ের রাজনীতি, কর্মসূচির রাজনীতি। ২১শে অগাস্ট আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বকে শেষ করে দেবার এই কালো প্রচেষ্টা প্রথমবারের মতো পরিষ্কার করে দেয় আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে দুই রাজনৈতিক দলের ভেতরে এখন সত্যিকারের যুদ্ধ শুরু হয়েছেঃ যে যুদ্ধ শুধু রাজনৈতিক যুদ্ধ নয়, যে যুদ্ধ জনগণের ভোটের যুদ্ধ নয়, যে যুদ্ধ কোন রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে যুদ্ধ না, কোন বিশ্বাস নিয়ে যুদ্ধ না, শুধুমাত্র ক্ষমতা লাভের জন্য জুদ্ধ, অস্তিত্বের যুদ্ধ। ১৮০০ শতাব্দীর প্রাশিয়ান জেনারেল কার্ল ভন ক্লসেওিক্স বলেছিলেন, “war is politics by other means” যেখান থেকে আমরা ধরে নিতে পারি যে রাজনীতির জায়গা শেষ হয়ে গেলে শুরু হয় যুদ্ধ। তিনি আসলে যুদ্ধক্ষেত্রের যুদ্ধের কথাই বলেছিলেন, যেটি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কখনোই কাম্য নয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতি আর যুদ্ধ একসাথে এক জায়গায় অবস্থান করতে পারে না। যুদ্ধ, সত্যিকারের যুদ্ধ, হল অস্তিত্বের লড়াই, আর গণতান্ত্রিক রাজনীতি মানে জনগণের আস্থা জেতার প্রতিযোগিতা। এই দুইয়ের ভেতরে কোন মিল নেই, আর অস্তিত্বের লড়াই যখন কেউ লড়ছে তখন অন্য কারো আস্থা যোগানোর প্রতিযোগিতায় তার মনোযোগ থাকতে পারে না। ২০০৪ সালের একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বকে অস্তিত্বের যুদ্ধে অবতীর্ণ হবার জন্য কেউ দোষারোপ করতে হয়ত পারবে না, তবে আজ আমরা ২০১৯ এ এসে দাঁড়িয়েছি।

গত ১৫ বছরে অনেক ঘটনা ঘটে গেছে। গত ১১ বছরে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে আওয়ামী লীগের আজ আর অস্তিত্বের লড়াই লড়বার কোনো কারণ নেই। গত ১১ বছর ধরে এই দল সরকার পরিচালনা করছে। তবুও আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের কর্মকাণ্ড দেখে এমনটা মনে হয় না যে তারা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে এসেছে। আজ যেখানে অস্তিত্বের লড়াইয়ের প্রয়োজন নেই, অপরদিকে কেউ তাদেরকে এমন অরাজনৈতিক এবং পৈশাচিক আঘাত করবার মতোও নেই, তখনও তারা জনগণকে ভুলে যে শুধু নিজেদের অবস্থান জোরদার করবার প্রচেষ্টাতেই নিয়োজিত আছে। ২০০৪ সালে এমন প্রতিক্রিয়ার জন্য তাদেরকে হয়তো দোষারোপ করা যেত না, তবে আজ ২০১৯ সালে নিশ্চয়ই তাদেরকে অগণতান্ত্রিক সরকার এবং অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে দোষারোপ করা যায়।আমরা আশা করি যেন ভবিষ্যতে আর কখনোই ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট এর মতো কোন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, এবং তেমন জায়গায় এই দেশ ফিরে না যায় । রাজনৈতিক অঙ্গনে যেন গণতান্ত্রিক রাজনীতি আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারি । যুদ্ধ ক্ষেত্র মনে করে যেন আমরা রাজনৈতিক ময়দানে অবতীর্ণ না হই। আর আমি আজকে এই দিনে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট এ যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি, আর যারা আহত হয়েছিলেন এবং যাদের অনেকেই আজ অবধি চিকিৎসাধিন আছেন তাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য দোয়া করছি । একইসাথে আরো দোয়া করছি যে আগামীতে আমাদের দেশের রাজনীতিতে আমরা জনগণ প্রীতি ফিরিয়ে আনতে পারি এবং রাজনীতিকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় রূপান্তর করতে পারি ।জয় বাংলাদেশ।

About admin

Check Also

আগামীকাল যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে-ওবায়দুল কাদের।।

অনলাইন ডেস্ক :     আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *