Home / বিবিধ / চশমা নিয়ে কিছু কথা ।।

চশমা নিয়ে কিছু কথা ।।

শফিউল ইসলাম আকাশ-স্পেশালিস্ট ডক্টর’স পয়েন্ট,দক্ষিণ বনশ্রী-খিলগাঁও-ঢাকা।

অনলাইন ডেস্ক: চশমা-চশমা মানুষের চোখের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহিত যেটি চোখের সংবেদনশীল অংশকে রক্ষা করে যেকোনো ধরনের অনিষ্ট থেকে।সাধারণত কাচ দিয়ে তৈরি করা হয় এবং সেটা নাকের উপর এবং দুই কানের সাথে লাগানো থাকে।

ইতিহাস-চশমার ইতিহাস অনেক প্রাচীন। সেই প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার চিত্রিত প্রমাণ হায়ারোগ্লিফিকসে মানুষের চশমার ব্যবহার আবিষ্কার করেছেন ইতিহাসবিদেরা। সাধারণত কোনো জিনিসকে পরিষ্কার দেখার জন্য ওই সময় বিভিন্ন ধরনের কাচের প্রচলন ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য চোখে কাচের ব্যবহারের লিখিত প্রমাণ রয়েছে। রোমান সম্রাট নিরোর একজন শিক্ষক ওই সময়ের বিভিন্ন বিষয়ের বর্ণনার সঙ্গে দূরের জিনিস পরিষ্কারভাবে দেখার জন্য জলমিশ্রিত এক ধরনের কাচ চোখে লাগানোর কথা বলেছেন। রোমান গ্ল্যাডিয়েটরসদের লড়াই উপভোগ করতে গিয়ে নিজের আসনে বসে রোমান সম্রাট নিরো বিশেষ কাচ চোখে লাগাতেন।

সত্যিকারের চশমা বলতে যা বোঝায়, তা প্রথম প্রচলিত হয় ইতালিতে দ্বাদশ খ্রিষ্টাব্দের দিকে। ওই সময় চোখে আতশী কাচ লাগিয়ে ছোট জিনিসকে দৃষ্টিসীমায় নিয়ে আসার জন্য চোখে চশমা ব্যবহার করার নজির রয়েছে ইতিহাসে। ১২৮৬ সালের দিকে ইতালিতে প্রথম চশমা তৈরি হয়েছিল। জিওর্দানো দা পিসা নামের এক ব্যক্তি প্রথমবারের মতো চশমা তৈরি করেছিলেন। দা পিসার তৈরি চশমার উদ্দেশ্য ছিল দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতার প্রতিকার।

উদ্ভাবন-আধুনিক চশমার উদ্ভাবক হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে গিরোলামো সাভোনারোলা নামের এক ইতালীয়কে। তিনি ১৭২৭ সালে বর্তমান সময়ের চশমার প্রাথমিক নকশাটি তৈরি করেন। তার আগে দুই চোখের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা এড়াতে চোখের সামনে কাচ ধরা হতো। সাভেনারোলার নকশাটিকে স্থির রেখে এরপর চশমার নকশা নিয়ে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। ধীরে ধীরে এটি পায় আধুনিক চেহারা।

চশমা কে না পরে ? তবুও আমাদের দেশে চশমার প্রতিশব্দ “চোখ খারাপ “। কিন্তু চশমা পরা চোখ কি সত্যিই খারাপ? সেই “খারাপ চোখ”ও চশমা নিয়ে ক’ টি কথা।

শুনলে আশ্চর্য লাগবে যদি বলি দুনিয়ার প্রত্যেকটা মানুষ,হ্যাঁ প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে কোন না কোন সময় চশমা লাগে-কেউ পরে আর কেউ পরে না,এই যা তফাৎ। বিশ্বাস করা একটু কঠিন হলেও কথাটা কিন্তু বৈজ্ঞানিক সত্য।

নীচের তথ্যগুলো জানলে চশমা পরা না পরার ব্যাপারে অনেক ভুল ধারণা,কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস,অজ্ঞতা, অবহেলা, অপপ্রচার,ভীতি ও চশমার ব্যাপারে অনেক বিভ্রান্তি দুর হবে বলে আশা করি।

চশমা সম্বন্ধে এই তথ্যগুলো মনে রাখবেন :

*আমরা সুস্থ চোখে চশমা পরি

*চশমার পাওয়ার বাড়লে মন খারাপ করার কোন কারণ নেই-এটা জুতোর সাইজ বাড়ার মতোই।

*চশমা নিলেই পাওয়ার বাড়বে, এ ধারণা ভুল। পাওয়ার যা বাড়ার তা বাড়বেই।

*আর মনে রাখবেন – ৭/৮ বছরের নিচের বয়সের বাচ্চাদের চশমা লাগলে অবহেলা না করে সব সময় পরাবেন, যদি ডাক্তার বলেন। এছাড়া, আর সবার চশমা পরা বা না পরা নির্ভর করে নিজের উপর। পরলে ভাল দেখবেন আর না পরলে দেখবেন না। চশমা পরলে চোখ ভাল হয় না। আর না পরলেও চোখ খারাপ হয়না। পরলে সাময়িকভাবে ভাল দেখবেন, এই যা।

*বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তির আগে অবশ্যই একবার দৃষ্টি পরীক্ষা করাবেন।

*চশমা পরলে প্রতি বছর এবার চোখ পরীক্ষা করান।

*ভুল চশমা পরলে চোখ খারাপ হয় না, শুধু যে পরছে তার অসুবিধা হবে কিংবা ভাল দেখবেনা।

*চশমা নিলেই পাওয়ার বাড়বে, এ ধারণা ভুল। পাওয়ার যা বাড়ার তা এমনিতেই বাড়বে।

*খাদ্যের সঙ্গে চশমার পাওয়ারের কোন সম্পর্ক নেই তবে ভিটামিন – এ যুক্ত খাবারের সঙ্গে বিশেষ একটা রাতকানা এবং অন্যকিছু চোখের রোগের সম্পর্ক আছে কিন্তু চশমার পাওয়ারের নয়।

*চশমা পরার সঙ্গে চশমার পাওয়ার বাড়া বা কমার কোন সম্পর্ক নেই।

*শতকরা মাত্র সাতজন (৭%) মাথাধরা রোগীর কারন চশমাজনিত কিন্তু চোখের ডাক্তারের কাছে আসেন শতকরা পচাত্তর জন।

*মনে রাখবেন কম আলোয় বা নিকট থেকে পড়লে, এবং বহুক্ষন টেলিভিশন দেখলে ও কম্পিউটারে কাজ করলে কিছুতেই চোখ “খারাপ” হয় না বটে, তবে চোখ ক্লান্ত হয়ে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন এক মাইলের জায়গায় পাঁচ মাইল হাটলে পায়ে ব্যথা হয়। বিশ্রাম নিলে আবার ঠিক হয়ে যায় চোখও ঠিক তেমনি।

*আপনার চশমা লাগে কিন্তু পরেন না, আপনার চশমা লাগত কিন্তু নিয়েছেন অনেক দেরীতে, এসবের কোন কিছুর সঙ্গে পাওয়ার বাড়া বা কমার সম্পর্ক নেই।

*মনে রাখবেন চোখ ব্যবহারে চোখ কোনদিনই খারাপ হয় না, সে যতই করুন না কেন।

*জানেন কি প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে কোন না কোন সময় চশমা লাগে?

*খাওয়া-পরার পরেই চশমার প্রয়োজনীয়তা মানুষের সবচেয়ে বেশী।

*শতকরা দশজন স্কুলের বাচ্চার চশমা লাগে এবং দেরীতে চশমা নেওয়ার জন্য তার তিন জনের অলস চোখ (Lazy Eye- Amblyopia)হয়ে থাকে, যার কোন চিকিৎসা নেই। অলস চোখ একটি মারাত্মক চক্ষু রোগ এবং এসব চোখ প্রায়ই আধা অন্ধ। তাই স্কুলে ঢোকার বয়সে আপনার বাচ্চার চোখ অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে নিন,কোন অসুবিধা থাক আর না থাক।

*শতকরা দশজন মানুষ নিকটদৃষ্টিবদ্ধ বা সুড়ঢ়রপ

*যা প্রয়োজন তার চেয়ে কম পাওয়ার নেওয়া চোখের জন্য ভাল কিছুই নয়, আপনি কম দেখবেন এই যা।

*বহু মানুষ অপ্রয়োজনীয় চশমা পরে।

*খোলা মাঠে সবুজ দিগন্তের দিকে নিয়মিত তাকিয়ে থাকলে চোখ ভাল থাকে,এ কথার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

*শরীরের অন্যান্য সব অঙ্গের তুলনায় চোখ সংক্রান্ত বিশেষ করে চশমাজনিত কুসংকার সবচেয়ে বেশী।

*এত প্রচার সত্বেও সারা পৃথিবীতে শতকরা পচিঁশ জন আজও বলে চশমা চোখের জন্য খারাপ।

আসল কথা হচ্ছে ইচ্ছা করে চোখের বা চশমার পাওয়ার বাড়ানো বা কমানো যায় না-যা হবার তা হবেই। (বি:দ্র: তথ্য সংগ্রহকরা)

About admin

Check Also

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের আবেদন যেভাবে করবেন।।

অনলাইন ডেস্ক :     গত মাসে প্রকাশিত হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) অধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *