Home / জাতীয় / জিয়াউর রহমান,খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান,তারা সবাই খুনি-প্রধানমন্ত্রী।।

জিয়াউর রহমান,খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান,তারা সবাই খুনি-প্রধানমন্ত্রী।।

অনলাইন ডেস্ক :    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন,জিয়াউর রহমান,খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান, তারা সবাই খুনি।তাদের কী অধিকার আছে দেশে রাজনীতি করার?তারপরও আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামি,এটা প্রমাণিত।তারেকের বিরুদ্ধে এফবিআই সাক্ষী দিয়ে গেছে।এরা মানুষের কল্যাণে কী কাজ করবে?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন,জনগণের উন্নয়ন করাই আমাদের লক্ষ্য।অথচ,বিএনপি কী করেছে। বাংলাদেশের এমন কোনো জায়গা নেই তারা অত্যাচার নির্যাতন করেনি।একইসঙ্গে মা-মেয়েকে ধর্ষণ করেছে।বিএনপির অত্যাচার-সন্ত্রাসের কারণে মানুষ শান্তিতে থাকতে পারেনি।পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে অত্যাচার করেছে,বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে একইভাবে দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে।২১আগস্ট গ্রেনেড হামলা করল।আমাদের নেতাকর্মী, মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রীদের হত্যা করল।এমন জঘন্য কাজ বিএনপি-জামায়াত করতে পারে,যা কল্পনাও করা যায় না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,খালেদা জিয়া জনগণের ভোট চুরি করেছিল।কিন্তু জনগণ সেটা মেনে নেয়নি।আমাদের নারীদের ওপর অজস্র অত্যাচার তারা করেছিল।কই আমরা তো তাদের মেয়েদের কোনো অত্যাচার-নির্যাতন করছি না।তারা রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, মাঠে নামছে।আমরা তাদের কোনো বাধা দিচ্ছি না।কিন্তু আমাদের ওপর যেই অত্যাচার করেছে সেটা ভুলব কীভাবে?জীবন্ত মানুষকে তারা পুড়িয়ে মেরেছে।এটা কি মানুষের কাজ?প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমরা সন্ত্রাস চাই না।আমরা জনগণ ও দেশের কল্যাণে কাজ করছি।আমরা দেশের মানুষের কল্যাণ চাই,এটাই আমাদের লক্ষ্য।আমরা সেইভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন,জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল তৈরি করা হবে।প্রতিটি ক্ষেত্রে  নারীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ আছে।প্রতিটি পরিবারে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের হিসেব করেই ঘর দেওয়া হয়েছে।নারীরা সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,আমরাই দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করি।কিন্তু বিএনপি কী করে?তারা ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে কত মেয়েকে নির্যাতন করেছে?বাংলাদেশের এমনকোনো জায়গানেই তারা অত্যাচার করেনি।পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে নির্যাতন করেছিল,বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে ঠিক একইভাবে অত্যাচার করেছিল। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,১৫ আগস্ট একটি কালো দিন।সেদিন জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়।একইসঙ্গে আমার মাকে হত্যা করা হয়।মেয়েরা স্বামীর কাছে কত কিছু দাবি করে,কিন্তু আমার মা বাবার কাছে কখনো কিছু চাননি।ঘাতকের দল যখন আমার বাবাকে হত্যা করে,তখন আমার মা বলেছিলেন,আমার স্বামীকে হত্যা করেছ,আমাকেও হত্যা করো।তিনি আরও বলেন,হানাদার বাহিনী মেয়েদের ধরে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছে।তখন জাতির পিতা সুইজারল্যান্ড থেকে নার্স এনে তাদেরকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।জাতির পিতা সবসময় নারী ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করতেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সন্তানদের বিষয়ে অভিভাবকদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন,নিজের সন্তান যেন জঙ্গিবাদে না জড়ায় সেদিকে নজর রাখতে হবে।ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে হবে।তাদেরকে সময় দিতে হবে।ছেলেকে সঠিক পথে রাখতে মাকেই বেশি অবদান রাখতে হবে।তিনি বলেন,বাংলাদেশ এক সময় ঘাটতির দেশ ছিল। আজ খাদ্য ঘাটতি নেই।তারপরও আপনাদের কাছে অনুরোধ,যেন কোনো জমি অনাবাদি না থাকে।প্রত্যকে যা পারেন তাই চাষ করুন।আমি চাই দেশের মানুষের যেন কষ্ট না হয়।দেশে একমাত্র আওয়ামী লীগই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,ডায়ালগ করতে হবে?কাদের সঙ্গে?সেই খালেদা জিয়া,তারেক জিয়ার সঙ্গে,যে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল।আবার এদের সঙ্গে ডায়ালগ করতে হবে কেন? 

বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে-মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃক।সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।

বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে এর আগে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা সমবেত হন।সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকা নারী নেত্রীদের ব্যানার,প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে ছেয়ে যায়।মহিলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।এতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি-বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে সভাপতি পদে সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি ও সম্পাদক পদে শবনম জাহান শিলার নাম ঘোষণা করেন। 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও গাজীপুর ৫ আসনের সংসদ সদস্য মেহের আফরুজ চুমকি।এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শবনম জাহান শিলা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেরা বেগম,সাধারণ সম্পাদক পারুল আক্তার নির্বাচিত হয়েছেন।এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহিদা তারেক দীপ্তি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন হাসিনা বারী। 

১৯৬৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ।বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে নারীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগ।এই সংগঠনে এবার যারা নেতৃত্বে আসবেন,তাদের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি সামলাতে হবে।

ছবি: সংগৃহীত

About admin

Check Also

আমরা দেশ ও জনগণের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি-প্রধানমন্ত্রী।।

অনলাইন ডেস্ক :    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,দেশে গণতন্ত্র ছিল বলেই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।এ ধারা না …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *