Home / চট্টগ্রাম / পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলায়-চার বছরের ছোট্ট শিশুর প্রাণ গেল নিজ মায়ের হাতেই ।।

পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলায়-চার বছরের ছোট্ট শিশুর প্রাণ গেল নিজ মায়ের হাতেই ।।

অনলাইন ডেস্ক: চার বছরের ছোট্ট শিশু ফাতেমার প্রাণ গেল নিজ মায়ের হাতেই -মা হাছিনা বেগমের (৩০) পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলায়।হাছিনা বেগম পাশের বাড়ির মাইনুদ্দিনের (৪৫) সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ায়।দুজনের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় হাছিনা তার প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে নিজের শিশুকন্যাকে খুন করে।পরে স্বামী বাসায় এলে আচমকা ঝাপটিয়ে ধরে কাবু করে তাকেও খুন করা হয় একইভাবে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বন্দর থানায় আটক নিহত আবু তাহেরের স্ত্রী হাছিনা বেগম জিজ্ঞাসাবাদে এই কথা স্বীকার করেছে।তিনি ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানান,গতকাল রোববার নগরীর দামপাড়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জানানো হয়,অভিযুক্ত মা হাছিনা বেগম ও তার প্রেমিক মাইনুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বাবা ও মেয়েকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায়।

অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম বলেন,শিশু ফাতেমা খাতুন পাশের বাসার মাইনুদ্দিন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে মা হাছিনা বেগমের অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলে।বাবা বাসায় এলে এই সম্পর্কের কথা বলে দেবে বললে মা হাছিনা বেগমওই শিশুকে হত্যা করে।পরে স্বামী আবু তাহেরকেও হত্যা করে মাইনুদ্দিন ও হাছিনা বেগম মিলে।এই ঘটনার পর পালিয়ে থাকা মাইনুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয় নোয়াখালী থেকে।জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে,ঘটনার দিন শনিবার সকালে আবু তাহের কাজে বের হলে তার স্ত্রী হাছিনা ও প্রেমিক মাইনুদ্দিন অবৈধ মেলামেশায় জড়ায়। তখনই শিশুকন্যা ফাতেমা এই ঘটনা দেখে ফেলে।খবর পেয়ে নগরের বন্দর থানার নিমতলা মোড়ে শাহআলমের ভবনের নিচতলার বাসা থেকে বাবা-মেয়ের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ শনিবার (১৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়,হত্যা করার সময় মাইনুদ্দীন শিশু ফাতেমার হাত-পা চেপে ধরে এবং হাছিনা বেগম নিজ কন্যা ফাতেমার গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে।লাশ যেন এসে কেউ না দেখে তার জন্য কাপড় দিয়ে খাটের ওপর ঢেকে রাখে হত্যার পর।মাইনুদ্দীন ও হাছিনা বেগম ঝাপটিয়ে ধরে আবু তাহেরকে হাছিনা বেগমের স্বামী আবু তাহের ঘরে ঢুকলে।মৃত্যু নিশ্চিত করে তার গলায় রশি পেঁছিয়ে শ্বাসরোধ করে পরে পেটে ও মাথায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে গলা কেটে।পুলিশ জানায়,আসামি মাইনুদ্দীন পালিয়ে যায় ঘটনার পর পরই।পুলিশ তাকে নোয়াখালী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে অভিযান চালিয়ে।নিহত আবু তাহেরের বড় ভাই মো. নুর আলম বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেন এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন চরঘাটা গ্রামের মৃত মো. মোস্তফার ছেলে আবু তাহের।

About admin

Check Also

কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ৪৮ ঘন্টায় দুটি খুন।।

অনলাইন ডেস্ক :    গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা হতে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮ ঘন্টা সময়ের ব্যবধানে দুটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *