Home / আদালত / বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির রায় আজ।।

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির রায় আজ।।

অনলাইন ডেস্ক :     আজ ঘোষণা করা হবে বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির রায়।বরগুনা শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান রায়ের এই দিন ধার্য করেন গত ১৪ অক্টোবর আসামিদের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে।তথ্যমতে জানাযায়,ইতোমধ্যে আদালতে নেওয়া হয়েছে আসামিদের মধ্যে ৬ জনকে।

বরগুনা জেলা দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান গত ৩০ সেপ্টেম্বর এই মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিচারের রায় ঘোষণা করেন।আদালত ১০ আসামির মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেন নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকাসহ ছয়জনকে।

আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন,মো. রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩),আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১),মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২),মো. হাসান (১৯) ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯)। এছাড়া বেকসুর খালাসপ্রাপ্তরা হলেন,মো. মুসা (২২),মো. সাগর (১৯),কামরুল হাসান সায়মুন (২১) ও রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০)।

প্রসঙ্গত,বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাতের ওপর হামলা হয় গত বছরের ২৬ জুন।তার মৃত্যু হয় পরে হাসপাতালে।পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দেয় ঐ বছর ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুইভাগে বিভক্ত করে।আসামি করা হয়েছে এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে।এ মামলায় মোট সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে ৭৬ জন সাক্ষীর।আজ গোটা দেশবাসীর নজর থাকবে আলোচিত এ হত্যা মামলার রায়ের দিকে।

হত্যাকাণ্ড যেভাবে ঘটে-বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় রিফাত শরীফকে কোথায়, কখন কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল তার একাধিক ভিডিও ফুটেজ।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের চিত্র দেখা গেছে এ ভিডিও ফুটেজে।ফুটেজ থেকে মোটামুটি বোঝা যাচ্ছে কত জন কীভাবে হত্যার মিশন শুরু করে সেটিও।প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা,পুলিশের তদন্ত ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ থেকে জানা যায়,রিফাত শরীফ সাদা রঙের মোটরবাইকে করে বরগুনা সরকারি কলেজের গেটের সামনে আসেন গত বছরের ২৬ জুন সকালে।এরপর তিনি প্রবেশ করেন কলেজের ভেতরে।ভেতরে প্রবেশের কিছু সময় পর ঘটনাস্থলে আসে রিফাত ফরাজী।ঘাতকদের এক জন রিফাত ফরাজীর দুই-তিন সঙ্গী কলেজে ঢোকে আরো দুই থেকে তিন মিনিট পর।

দেখা যায় একপর্যায়ে,কলেজ থেকে বের হন রিফাত শরীফ ও তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।এর একটু পর রিফাত শরীফকে ধরে ফেলে রিফাত ফরাজীর নেতৃত্বে আট থেকে ১০ জন।তারা তাকে ফটকের সামনের সড়ক থেকে পূর্ব দিকে নিয়ে যায় কিল,ঘুষি দিতে দিতে।নয়ন বন্ড ও অন্যদের সেখানেই প্রথম দেখা যায়।ভিডিওতে দেখা যায়,দৌড়ে কাছাকাছি কোথাও লুকিয়ে রাখা দুটি রামদা নিয়ে আসে রিফাত ফরাজী ও তার অপর এক সহযোগী।রিফাত ফরাজী এর একটি রামদা নয়নের হাতে দেয়।এরপর তারা রিফাত শরীফকে দুই জন মিলে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে।স্ত্রী মিন্নি তাদের দায়ের কোপ থেকে স্বামীকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন।তবে পরে পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে,মিন্নিও এই হত্যাকাণ্ডের এক জন পরিকল্পনাকারী।তাই পরে আসামি করা হয়েছে তাকেও।মিন্নি রিফাত শরীফকে বিয়ে করেছিলেন নয়নের সঙ্গে তার বিয়ের বিষয়টি গোপন করেই। ভিডিওতে দেখা যায়,রিফাত ফরাজী ও নয়ন বন্ড রামদা হাতে সবার সামনে দিয়ে সঙ্গীদের নিয়ে ঘটনাস্থলের পশ্চিম দিকে চলে যাচ্ছে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার পর।তখন রিফাত শরীফের রক্তে ভেসে যাচ্ছে তার কাপড়চোপড়।সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় কে বা কারা রিকশায় তুলে।পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে মারা যান রিফাত শরীফ ঐদিন বিকাল ৩টার দিকে।

পুলিশ জানায়,হত্যাকাণ্ড একদম পরিকল্পিত ছিল।ঘাতকরা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিল কেউ কিছু আঁচ করার আগেই।তাদের মধ্যে একটি বৈঠকও হয়েছিল কীভাবে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে রিফাত শরীফের ওপর হামলা করা হবে সে ব্যাপারে।তবে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ায় তাকে বাদ দিয়ে বিচার শুরু হয় বাকি আসামিদের।

*ছবি-তথ্য সংগ্রহকরা*

About admin

Check Also

রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মিন্নি বরগুনা থেকে কাশিমপুর কারাগারে।।

অনলাইন ডেস্ক :     কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ফাঁসির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *