Home / শিক্ষা / বর্তমান বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে জন্য সকলকে নিয়ে শিক্ষা বৈষম্য দূর করার ঘোষণা দিলেন-বিটিসি।।

বর্তমান বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে জন্য সকলকে নিয়ে শিক্ষা বৈষম্য দূর করার ঘোষণা দিলেন-বিটিসি।।

অনলাইন ডেস্ক:      বর্তমান বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের জন্য ছাএ,শিক্ষক, অভিভাবক,আম জনতা নিয়ে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিকভাবে শিক্ষা বৈষম্য দূর করার ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ টিচার্স কাউন্সিল(বিটিসি) এর চৌকস,মার্জিত ও সত্যের নির্ভীক তরুণ সাহসী শিক্ষক নেতা জনাব মোঃ মোমিনুল ইসলাম।

তিনি দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়েও শিক্ষকদের সব ধরণের যৌক্তিক দাবী নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছেন।

নিজের টিউশনির টাকা খরচ করে শিক্ষার অধিকার,শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে নিরলসভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কষ্ট লাঘবে তিনি সরকারকে বেসরকারী শিক্ষাখাত জাতীয়করণ অর্থাৎ একসাথে সব বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের অনুরোধ করেন।

তিনি মনে করেন,একই বই একই সিলেবাস পড়ে কোনো ছাত্র বেসরকারী স্কুলে বেতন দিবে পাঁচশত টাকা আবার কোনো ছাত্র সরকারি স্কুলে বেতন দিবে ১২ টাকা এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।এতে শিক্ষার্থীদের সাথে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে। অভিভাবকরাও এই বৈষম্যের কারণে ঠিকমত বেতন দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।এতে করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে,অভিভাবকরাও শিক্ষকদের সাথে খুব একটা ইতিবাচকভাবে আচরণ করছে না।

জনাব মোঃ মোমিনুল ইসলাম

অনেক অভিভাবক করোনাকালীন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে শিক্ষার্থী না পড়িয়ে টিউশন ফি নেওয়ারও অভিযোগ তুলছেন।সরকার যদি বেসরকারী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে সরকারিকরণ করে দেন,তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর আর্থিক ও মানসিক চাপ কমে যাবে,শিক্ষকরাও স্বাচ্ছন্দ্যে ক্লাস করাতে পারবেন।

সকল শিক্ষার্থীই একই টিউশন ফি দিয়ে সারা বাংলাদেশে সমান সুযোগে পড়াশোনা করতে পারবেন।শিক্ষকদের মনেও বৈষম্যের কথা এসে ক্লাসে পড়ানো বা অফিসে বসে বিরূপ ও হতশার চিন্তা আসবে না।প্রফুল্ল মনে কাজ করতে পারবেন।

জনাব মোঃ মোমিনুল ইসলাম বলেন,একের পর এক সরকার এসেছেন,শিক্ষাব্যবস্থা তাদের মত করেই শুধু রদবদল করে চলেছেন কিন্তু শিক্ষা জাতীয়করণের জন্য কোনো সরকারই কোনো যুগান্তকারী ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেয়নি।

এ দিকে বিভিন্ন বেসরকারী শিক্ষক সংগঠনের নেতারা নিজেদের বড় নেতা মনে করলেও তারা সরকারকে কঠিন হুশিয়ারী দিয়ে শিক্ষা জাতীয়করণ করার সাহস দেখায়নি।ফলে কাকুতি মিনতি করেই ৪৯ বছর চলে গেছে,শিক্ষা সংস্কার ও শিক্ষা জাতীয়করণ আর হয়নি। মূল ধারার রাজনীতি না করে,পরিবর্তনের রাজনীতি না করে,তারা শুধু দলের তোষোমাদী ও লেজুরবৃত্তী করে সাধারণ শিক্ষকদের আবেগ নিয়ে খেলা করেছে।তাদের এই দলীয় ও নিজ নিজ বিশেষ স্বার্থের কথা জেনে স্বার্থন্বেষী আমলা,সচিবরাও শিক্ষা জাতীয়করণের দিকে তীক্ষ্ম নজর দেননি,দেয়নি কোনো সরকার।

শিক্ষক সংগঠনগুলো এখন নেতৃত্ব বিভাজনের চরম পর্যায়ে চলে গেছে।শিক্ষকদের এ ধরণের নেতৃত্ব বিভাজনের কারণে শুধু শিক্ষকদের দিয়ে শিক্ষা জাতীয়করণের মত অনেক বড় একটি বিষয়ে সরকারের নজরে আনা সম্ভব নয়।তাই সেচ্ছায় মাঠে ময়দানে,বাসায় বাসায়,স্কুলে,সোসাল মিডিয়ায়,রাস্তা ঘাটে,পরিবহনগুলোতে ছাত্র,শিক্ষক,অভিভাবক,আম জনতাকে বেসরকারী শিক্ষাখাত জাতীয়করণের গুরুত্ব বুঝাচ্ছেন।তুলে ধরছেন শিক্ষার বৈষম্যগুলো।

এ বিষয়ে তার সাথে কথা বলে জানা যায়,এ কাজে তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।ব্যাপক প্রচারের স্বার্থে মাস্ক,মাথা বন্ধনী,শার্ট,পাঞ্জাবীতেও শিক্ষা জাতীয়করণ চাই দাবীটি উত্থাপন করা হয়েছে।ছাত্র,শিক্ষক,সচেতন অভিভাবক এমনকি রিক্সাচলক,পান বিক্রেতা,মাস্ক বিক্রেতাসহ ফুটপাতের হকাররাও খুব আন্তরিকভাবে তাকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন ও এরূপ বৈষম্য দূর করতে সরকার প্রধানকে একযোগে বেসরকারি স্কুল,কলেজ জাতীয়করণের অনুরোধ করেছেন।

তিনি বিগত সময়ে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের সাথে দফায় দফায় আলেচনায় অংশ নিলেও শুধু নেতৃত্ব বিভাজন ও দলীয় ভাব ধারার জন্য শিক্ষা আন্দোলনে তেমন একটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারেননি যে আন্দোলনে শিক্ষা জাতীয়করণের দাবী পূরণ করা সম্ভব।

তাঁর চেষ্টায় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএমের মাননীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ববি হাজ্জাজ গত জুন মাসে লিখিত প্রস্তাব আকারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা বৈষম্য দূর করতে বেশ কয়েকটি পয়েন্ট তুলে ধরেন।এগুলো হল বেসরকারী শিক্ষাখাত জাতীয়করণ,শিক্ষা সংস্কার,শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি,শিক্ষা গবেষণায়র সুযোগ সৃষ্টি বৃদ্ধিসহ সর্বপরি উন্নত শিক্ষা।

তিনি মনে করেন শিক্ষা জাতীয়করণ একটি সার্বজনীন বিষয়।তাই রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সবাইকেই এটিতে সমর্থন দিয়ে পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।এটি করলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাই বেশি উপকৃত হবে,সরকারেরও খুব একটা চাপ পরবে না।উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করতে সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ইস্তেহারেও শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।সবার আগে শিক্ষার মান উন্নয়নের দিকেই সব সরকারকে সুনজর দিতে হবে।শিক্ষার বিরাজমান বৈষম্যগুলো দূর করতে হবে।

তিনি সকল সাংসদকেও সংসদে একসাথে শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি উত্থাপন করার অনুরোধ জানান।

তাঁর বর্তমান পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এককভাবে শিক্ষা জাতীয়করণসহ শিক্ষার বিরাজমান বৈষম্যগুলো দূর কর সম্ভব নয়।তাই “গণতান্ত্রিক শিক্ষক আন্দোলন
(Democratic Education Movement-DEM) গণঐক্যের ব্যানারে ছাত্র,শিক্ষক, অভিভাবক,আমজনতা নিয়েই নতুনভাবে এগিয়ে যেতে হবে।তিনি সব শিক্ষক সংগঠনসহ সবাইকে এই গণঐক্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার অনুরোধ জানান।

ইতোমধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি শিক্ষক সংগঠনকে এ ব্যানারের সাথে যুক্ত হয়েছেন বলে মত দেন এবং তাদের নিয়ে বসে কর্মসূচীর পরিকল্পনা করবেন বলে জানান।তিনি তরুণ শিক্ষকদেরকে বিশেষভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান এবং সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে,অবসর কল্যাণ বোর্ডের সদস্য সচিব হওয়ার স্বপ্ন না দেখে শিক্ষক,শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে নির্ভীক সত্যের সংগ্রাম করার আহ্বান জানান।

শিক্ষার কোন কোন জায়গায় বর্তমান সমস্যাগুলো বেশি জানতে চাইলে তিনি আবারো বলেন,শিক্ষা জাতীয়করণ না করা প্রধান কারণ,শিক্ষা জাতীয়করণ করলে অধিকাংশ সমস্যা সমাধান হয়ে যায়।এছাড়াও যে দূর্বলতা রয়েছে তা হল ননএমপিও,খন্ডকালীন শিক্ষকদের বৈষম্য,নিবন্ধিত লক্ষ লক্ষ যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষকদের নিয়োগ কার্যকর না,এমপিওভূক্ত শিক্ষাঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা নিবন্ধিত ননএমপিও শিক্ষকদের দিকে শিক্ষামন্ত্রীর তীক্ষ্ম নজর না দেওয়া,তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিও না দেওয়া,অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিও না দেওয়া,প্রাইভেট শিক্ষকরা বেতন না পেলেও শিক্ষামন্ত্রীর তীক্ষ্ম নজর না দেওয়া,কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলো পথে বসলেও তীক্ষ্ম নজর না দেওয়া,কালো প্রথার যুগ যুগ ধরে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষদের ব্লক পোষ্ট রাখা,তৃণমূল থেকে শিক্ষা বিভাগের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত শিক্ষকদের ধাপে ধাপে আগ্রাধিকার না দেওয়া,শিক্ষক নিয়োগ দূর্নীতিমুক্ত না করা,গাইড ব্যবসা নিষিদ্ধ হলেও জোরালো পদক্ষেপ না নেওয়া,শিক্ষা আইন না থাকা,স্বতন্ত্র শিক্ষা কমিশন গঠন না করা,স্বতন্ত্র শিক্ষক ব্যাংক চালু না করা,অবসর কল্যাণ বোর্ডের স্বৈরাচার শাসন ব্যবস্থা বন্ধ না করা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে শিক্ষক নির্যাতন,হয়রানি,বহিষ্কার করা থেকে শিক্ষকদের মুক্ত না করা,অযোগ্য, অজমূর্খ মানুষদের দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা, ইত্যাদি বৈষম্যে জর্জরিত শিক্ষাব্যবস্থা।

শিক্ষা সংস্কার করে শিক্ষা জাতীয়করণসহ উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে একটি উন্নত সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা কখনই সম্ভব হবে না।তাই সর্ব দলীয় রাজনৈতিক নেতাদের ও সর্ব স্তরের অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের সর্বজন স্বীকৃত একটি উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এখন থেকেই ভাবতে হবে।তবেই পাবো চির সবুজের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।

*ছবি-তথ্য জনাব মোঃ মোমিনুল ইসলাম*

About admin

Check Also

সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ।।

অনলাইন ডেস্ক :    সরকার আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *