Home / জাতীয় / বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আজ গৌরবোজ্জ্বল ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী…৭১ বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ…

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আজ গৌরবোজ্জ্বল ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী…৭১ বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ…

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আজ গৌরবোজ্জ্বল ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী-বাঙালি জাতির মুক্তির মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে গণতান্ত্রিকভাবে জন্ম নেওয়া উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকা দলটি ৭১ বছরে পা দিল।দেশের স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দেয় মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দলটি।আওয়ামী লীগ মানেই জাতির অর্জন,সমৃদ্ধি আর সম্ভাবনার স্বর্ণালি দিন।দলটি জনপ্রিয়তায় ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও যোগ্য নেতৃত্বের কারণে।দলটির সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-আওয়ামী লীগের জন্মদিনে সংগঠনের অগণিত নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।তিনি জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ, উন্নত ও আধুনিক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন গতকাল এক বাণীতে।আওয়ামী লীগ এবার জমকালো আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।আজ রবিবার থেকে শুরু হয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি চলবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে।আলোকসজ্জা করা হয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে।সভা-সমাবেশ,সেমিনার ও ৱ্যালি,প্রচার ও পুস্তিকা প্রকাশ,রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ থাকছে ব্যতিক্রমী আরো কিছু আয়োজন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে।

আওয়ামী লীগ প্রতি জেলা থেকে দুজন করে প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকে সংবর্ধনা দেবে এবারই প্রথম।যে বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ-নানা আয়োজন রয়েছে,পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সেই রোজ গার্ডেনেও।আলোকসজ্জা করা হয়েছে পুরনো দলীয় কার্যালয় ৯১ নবাবপুর রোডেও।১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছিল এই কার্যালয়েই।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউ রোজ গার্ডেন থেকে…

যে দলটির প্রতিষ্ঠা পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে,সেই আওয়ামী লীগ আজ পেয়েছে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সুরম্য ১০ তলা নিজস্ব কেন্দ্রীয় কার্যালয়।আওয়ামী লীগই একমাত্র দল,টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে যাদের বাংলাদেশের ইতিহাসে।আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের রাজনীতিতে গত ৬ দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের অপরিহার্যতা প্রমাণ করেছে।আওয়ামী লীগের ভূমিকা প্রত্যুজ্জল এদেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে।সবখানেই সরব উপস্থিতি ছিল আওয়ামী লীগ-৪৭’র দেশ বিভাগ,৫২’র ভাষা আন্দোলন,৬২’র ছাত্র আন্দোলন,৬৬’র ছয় দফা,৬৯’র গণঅভ্যুত্থান,৭০’র যুগান্তকারী নির্বাচন আর ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা আন্দোলন। ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’প্রতিষ্ঠিত হয়-হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশেমের নেতৃত্বাধীন তত্কালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একাংশের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কে এম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে,যার সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের শামসুল হক।যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হনতখন  কারাবন্দি অবস্থায় তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিলে।ঢাকার সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলে দলের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক সংগঠনে পরিণত হয় ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর।দলের নতুন নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে।প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ ভেঙ্গে যায়-১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে দলের আন্তর্জাতিক নীতির প্রশ্নে সোহরাওয়ার্দী-ভাসানীর মতপার্থক্যের কারণে।ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হয়।আর মূল দল আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান বহাল থাকেন।শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের কাউন্সিলে দলের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন।সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তাজউদ্দীন আহমদ তাঁর সঙ্গে।সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অপরিবর্তিত থাকেন ১৯৭০ সালের কাউন্সিলে।মহান মুক্তিযুদ্ধ এই কমিটির মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।দলের নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি স্থগিত করা হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে।ঘরোয়া রাজনীতি চালু হলে আওয়ামী লীগকেও পুনরুজ্জীবিত করা হয় ১৯৭৬ সালে।নির্বাসনে থাকা বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়,এক পর্যায়ে সঠিক নেতৃত্বের অভাবে দলের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে।১৯৮১ সালের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় দেশে ফেরার আগেই।শেখ হাসিনা সভাপতি পদে বহাল থাকেন সর্বশেষ ২০১৬ সালে ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে।সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।আওয়ামী লীগ আজ এ দেশের গণমানুষের ভাব-ভাবনার ধারক-বাহকে পরিণত হয়েছে,দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উত্রাই ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচি…

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্য উদয় ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও বেলা ১১টায় টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রতিনিধি দলের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন।আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে-আগামীকাল সোমবার বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে।আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন।এক বিবৃতিতে দলের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন,আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

(বি:দ্র: ফাইল ছবি-তথ্য সংগ্রহকরা)

About admin

Check Also

বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামানের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ।।

অনলাইন ডেস্ক :    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *