Home / খুলনা / যশোরের শার্শায় এক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পুলিশের উপপরিদর্শকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা ।।

যশোরের শার্শায় এক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পুলিশের উপপরিদর্শকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা ।।

অনলাইন ডেস্ক: পুলিশের উপপরিদর্শকসহ (এসআই) ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে,যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শায় রাতের আঁধারে বাসায় ঢুকে এক নারীকে (৩০) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে।পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করে-মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে শার্শা থানায় মামলা করলে।এই নিপীড়নের ঘটনা ঘটে গত সোমবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার লক্ষণপুর গ্রামে।গ্রেফতারকৃতরা হলো,শার্শার চটকাপোতা গ্রামের কামরুল ইসলাম,একই উপজেলার লক্ষণপুর গ্রামের ওমর আলী ও আবদুল লতিফ।এখনো গ্রেফতার করা হয়নি এই ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই খায়রুল আলমকে।শার্শা থানার গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে ছিলেন তিনি।সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় খায়রুলের বাড়ি।

তবে পুলিশ বলছে,এই খায়রুল অভিযুক্ত সেই খায়রুল নয়।ওই নারীর দাবি,পুলিশ সদস্যসহ ৪ জন উপস্থিত ছিলেন নিপীড়নের সময়।তিনি অভিযোগ করেছেন এসআই খায়রুল ও সোর্স কামরুল তাকে ধর্ষণ করেছে।তথ্যমতে,জানাযায়-যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলছেন,ওই নারীর সামনে এসআই খায়রুলসহ চারজনকে হাজির করা হয় মঙ্গলবার বিকালে।এসআই খায়রুল ছাড়া অপর তিনজনকে চিনতে পেরেছেন তিনি।তবে ওই নারী জানান,তার স্বামী একসময় চোরাচালানি ব্যবসায় নিয়োজিত ছিল,বর্তমানে কৃষিকাজ করেন।৯ দিন আগে এসআই খায়রুল বাড়ি থেকে তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যান।পরে এসআই খায়রুল তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।ওই নারীর স্বামীর কাছে ৫০ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া গেছে বলে মামলা দিয়ে আদালতে তাকে চালান করা হয় টাকা দিতে না পারায়।

ওই নারী অভিযোগ করে বলেন,এসআই খায়রুল সোমবার রাত আড়াইটার দিকে,তার সোর্স কামরুল ও গ্রামের আরো তিন থেকে চারজন বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করেন।এত রাতে দরজা খুলতে না চাইলেও তারা আমার স্বামীর নামে মামলা দেবেন বলে হুমকি দেন।তখন আমি দরজা খুলে দিই।এই সময় খায়রুল আবারও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।ওই টাকা না দিলে ৫৪ ধারায় মামলা করার হুমকি দেন।এই নিয়ে তার সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়।একপর্যায়ে খায়রুল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।আমাকে ধর্ষণ করে এরপর তিনি ও কামরুল দুজন মিলে।ওই নারী আরো বলেন,ঘটনাটি প্রতিবেশীদের জানাই এসআই খায়রুলসহ অন্যরা চলে যাওয়ার পর।আমাকে মামলা করার পরামর্শ দেন প্রতিবেশীরা।মামলা করতে হলে হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করাতে হবে।এই কারণে আমি থানায় না নিয়ে সোজা যশোর জেনারেল হাসপাতালে যাই।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আরিফ আহম্মেদ জানান,মঙ্গলবার দুপুরে ওই নারী জরুরি বিভাগে আসেন।তাকে পুলিশের মাধ্যমে আসার জন্য বলা হয় অভিযোগ শুনে। কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ওই নারীকে পুলিশ সুপারের কাছে নিয়ে যান বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে।শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমান জানান,তিনজনের নাম উল্লেখসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি মামলা করেছেন ওই নারী।যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন,অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের সিনিয়র কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি।পুলিশ সদস্য বলে তদন্তে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।  জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য যশোর।যশোর জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার আরিফ আহম্মেদ জানান, আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে প্রতিবেদন আসার পর।বিষয়টি তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন গতকাল বুধবার খুলনার ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদউদ্দিন।যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হকসহ অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা এই সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

(বি:দ্র: ছবি-তথ্য সংগ্রহকরা)

About admin

Check Also

ভারতে পাচারের সময় ৯ কেজি ২শ গ্রাম ওজনের ৫৭টি স্বর্ণের বারসহ এক নারী গ্রেফতার।।

অনলাইন ডেস্ক :     ৯ কেজি ২শ গ্রাম ওজনের ৫৭টি স্বর্ণের বারসহ বানেছা বেগম নামে এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *