Home / রাজশাহী / রাজশাহী চারঘাটে বিলুপ্তির পথে কামার শিল্প,ঈদ উপলক্ষে বেড়েছে ব্যস্ততা ।।

রাজশাহী চারঘাটে বিলুপ্তির পথে কামার শিল্প,ঈদ উপলক্ষে বেড়েছে ব্যস্ততা ।।

সংবাদদাতা : মোঃ সাইফুল ইসলাম রায়হান,চারঘাট রাজশাহী।

অনলাইন ডেস্ক: কোরবানি ঈদ আসলে কাক ডাকা ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত টুং-টাং শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে কামারপল্লীগুলো। শুরু হয় নতুন করে কাজের ব্যস্ততা।এক সময়ের গ্রামবাংলার কামারশিল্প এখন বিলুপ্তির পথে।রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে দা, কুড়াল, বটি, ছোট-বড় চাকু, ছোরা ও কাটারিসহ নানা সামগ্রী তৈরি করতে দিনে ও রাতে সমান তালে লোহার টুং-টাং শব্দে জমে উঠেছে কামারপল্লীগুলো।

আধুনিকতার উৎকর্স, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে নানাবিধ সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে হাজার বছরের গ্রাম-বাংলার মানুষের প্রিয় শিল্পটি। ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্প নানা সংকটে আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, কারিগরদের মজুরি বৃদ্ধি, তৈরি পণ্যসামগ্রী বিক্রয়মূল্য কম, কয়লার মূল্য বৃদ্ধি, বিদেশ থেকে বড়-বড় ব্যবসায়ীদের স্টিল সামগ্রী আমদানিসহ চরম আর্থিক সংকট ও উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কম থাকায় ও বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে এ উপজেলার কামারশিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে।

এর পরেও কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের কামাররা দেশি প্রযুক্তির দা, কুড়াল, বটি, ছোট-বড় চাকু, ছোরা ও কাটারিসহ নানা সামগ্রী তৈরি করতে আগেভাগেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। এ ছাড়াও হাট-বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় এরই মধ্যেই গ্রামের লোকজন গরু, মহিষ, ছাগল জবাই ও মাংস তৈরির কাজের জন্য কামারদের কাছে প্রয়োজনীয় ধারালো দেশি তৈরি চাকু, বটি, কাটারি ও ছুরি তৈরির আগাম অর্ডার দেওয়া শুরু করায় কামারপল্লীগুলোতে টুং-টুং শব্দে এখন মুখরিত।সরেজমিনে বিভিন্ন বাজারের কামারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কেউ তৈরি করছে দা, কেউ বা তৈরি করছে চাপাতি আবার কেউ কেউ তৈরি করছে ছুরি। আবার কেউ পুরাতনগুলোর শান দিচ্ছেন এবং নতুনগুলো সারিবদ্ধভাবে দোকানের সামনে সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রির উদ্দেশ্যে।

ঈদুল আযহা এলেই তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এতে অনেক খুশি তারা। তবে ঈদ ছাড়া বাকি দিনগুলোতে তাদেও তেমন একটা ব্যস্ততা থাকে না বললেই চলে। বছরের অন্যান্য সময় তাদের দিনে ২/৩ শ টাকা আয় হয় আবার কোনা কোনো দিন হয়ই না।বর্তমানে কয়লা পাওয়া খুবই কঠিন। তা ছাড়া দামও বেশি। পাশাপাশি লোহার দামও বেশি। সরকার আর্থিক সহযোগিতায় ঋণের ব্যবস্থা করে দিলে ব্যবসায়িকভাবে সফলতার মুখ দেখা যেত কামারশিল্পে তেমনটা আশা তাদের। চারঘাট বাজারের রণজিৎ কর্মকার জানান, লোহা পিটিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা আমাদের পেশা, বাপ-দাদার পৈতৃক সূত্রে আমি এই পেশায় জড়িত। একটি মাঝারি ধরনের দা ও কাটারি তৈরি করে ওজন অনুযায়ী ২ শ ৫০ টাকা থেকে ৩ শ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়। সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যে ক’টি জিনিস তৈরি করি তা বিক্রয় করে খুব বেশি লাভ না হলেও পরিবার-পরিজন নিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে বেচে থাকার স্বার্থে এই পেশা আমি ধরে রেখেছি। অন্যান্য পেশার মতো আমাদের কোনো সংগঠন না থাকায় আমরাও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছি।

About admin

Check Also

রাজশাহীর বাঘায় স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বাড়ছে ঝুঁকি।।

মোঃ সাইফুল ইসলাম রায়হান-রাজশাহী। অনলাইন ডেস্ক :     রাজশাহী বাঘা স্বাস্হ্যবিধি না মানায় বাড়ছে ঝুঁকি। দ্বিতীয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *