Home / জাতীয় / সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা…

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা…

অনলাইন ডেস্ক: সংবাদ সম্মেলন করছেনপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ১১ দিনের ত্রিদেশীয় সফর নিয়ে।এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়,প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আজ রবিবার বিকেল ৫টার দিকে।২৮ মে থেকে ৭ জুন জাপান,সৌদি আরব এবং ফিনল্যান্ড সফর করেনপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ত্রিদেশীয় সফরের শুরুতে গত ২৮ মে জাপানের রাজধানী টোকিও যানপ্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে’র মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৪০তম অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট এসিসটেন্স (ওডিএ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়সেখানে।মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন-প্রধানমন্ত্রী ‘এশিয়ার ভবিষ্যত’ শিরোনামে আয়োজিত নিক্কেই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে।এছাড়া তিনি সেখানে তার সম্মানে আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রাতরাশ গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন-গুলশানের হোলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার শিকার জাপানি নাগরিকদের পরিবার এবং জাইকা সভাপতি শিনিচি কিতাওকা পৃথকভাবে।পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ১৪ তম ওআইসি সম্মেলনে যোগদান করেন,সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ৩১ মে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে।মক্কাতে পবিত্র ওমরাহ পালন এবং মদীনাতে রাসুল মুহাম্মাদ (সা.) এর রওজা মোবারক জিয়ারত করেনপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,যখনই বিমানে উঠি,তখনই একটি ঘটনা ঘটে বা একটি নিউজ হয়।এটি কেন হয়,আমি জানি না। এখন সবাই আবার ভিআইপি,ভিভিআইপি এরপর আবার আরও “ভি” লাগবে। যত “ভি” লাগুক,বাংলাদেশে (ইমিগ্রেশনে) এরপর আর কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।প্রধানমন্ত্রী,ত্রিদেশীয় সফর নিয়ে আজ রবিবার বিকালে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী,বলেন,হয়তো পাসপোর্ট (নেওয়া) ভুলে যেতে পারে,পাসপোর্ট (নিতে) ভোলা কোনো ব্যাপার না। কিন্তু এখানে ইমিগ্রেশনে যারা ছিল,তাদের তো এই নজরটা থাকতে হবে। আমার কাছে খবর যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি বলেছি,ইমিডিয়েট ব্যবস্থা নিতে।ইমিগ্রেশনে কারা ছিল? কেন চেক করেনি? কেন দেখেনি। আমরা এখন ইমিগ্রেশনে খুব কড়াকড়ি করতে বলেছি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকের পাসপোর্টে সিল মারা আছে কি না, তাদের চেক ভালোভাবে হচ্ছে কি না—এসব বাড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পাঠাতে আমরা চুক্তি করেছি। সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের (মিয়ানমার সরকার) সঙ্গে যোগাযোগও আছে। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী নয়।ত্রিদেশীয় সফর নিয়ে আজ রবিবার বিকালে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিয়ে আমরা ভারতের সঙ্গে কথা বলছি, জাপানের সঙ্গে কথা বলছি, অন্যদের সঙ্গে কথা বলছি– সবাই বলছে, হ্যাঁ তারা মিয়ানমারের নাগরিক, তাদের ফিরে যাওয়া উচিত।সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়- এই নীতিতে আমরা বিশ্বাসী এবং আমরা এটাই মেনে চলি। এ কারণে পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক স্থাপনের একটাই উদ্দেশ্য দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সবসময় সব ফোরামে একটি কথা বলার চেষ্টা করি, আমাদের সবার একটা কমন এনিমি (অভিন্ন শত্রু) আছে। সেটা হলো দারিদ্র্য। তাই সবার প্রতি আহ্বান জানাই, আসুন, আমরা সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করি। সাধারণ মানুষকে একটা সুন্দর জীবন দিই।প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমাদের বড় দুশমন হলো দারিদ্র্য। এই দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করতে হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছি। এটাকে আন্তর্জাতিক রুটের সঙ্গে সংযুক্ত করার কাজ চলছে। এখানে জ্বালানি নেবে আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটগুলো। শুধু জ্বালানিই নেবে না, সুযোগ পেলে ঘুরবেও।প্রধানমন্ত্রী বলেন,যদি আমরা সেভাবে সি-বিচটাকে দেখাতে পারি। কিছু কিছু এলাকা বিদেশি পর্যটকদের জন্য ডেডিকেটেড (তাদের উপযোগী) করে দেবো। এটা করতে পারলে আমরা পর্যটনে আরও এগিয়ে যাব।প্রধানমন্ত্রী বলেন,সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ওআইসির ১৪তম ইসলামিক সম্মেলনে এশিয়ার পক্ষ থেকে আমি বক্তব্য দিয়েছি। সম্মেলনে জঙ্গিবাদ,রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করি। ভালোভাবে তুলে ধরি এসব বিষয়। মুসলিম দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে কথা হয়।জঙ্গিবাদের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‌‘বেহেশতে যাওয়ার আগ্রহে এখন অনেক তরুণ বিভিন্ন উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এটি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। মনেহয় মানুষকে মারতে পারলেই বেহেশতের দিকে দু কদম এগিয়ে যাচ্ছে। যারা এভাবে মারা গিয়েছে তারা কি কেউ বেহেশত থেকে এমন ম্যাসেজ পাঠাতে পেরেছে যে আমরা খুব আরামে আছি?মুসলিম দেশগুলোতে সহিংসতা, রক্তপাতের অবসানে ওআইসিকে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মুসলমানদের নিজেদের এমন সংঘাতে জড়িয়ে কাদের লাভ হচ্ছে? এর ফলে লাভবান হচ্ছে কেবল অস্ত্র ব্যবসায়ীরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে আমরা আত্মঘাতী সংঘাত করে যাচ্ছি, একে অপরকে খুন করছি, রণক্ষেত্র হচ্ছে সমস্ত মুসলিম কান্ট্রি। প্রতিটা মুসলিম কান্ট্রির মধ্যেই খুনোখুনি হচ্ছে। লাভবান কে হচ্ছে? যারা অস্ত্র সরবরাহ করছে তারা, যারা অস্ত্র তৈরি করছে, বিক্রি করছে তারাই লাভবান হচ্ছে। আর মুসলমান মুসলমানের রক্ত নিচ্ছে।জঙ্গিবাদের সঙ্গে শুধু মাদ্রাসা ছাত্ররা জড়িত নয় জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় ধারণা করা হতো শুধু কওমি মাদ্রাসার ছেলেরাই এসব কাজের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এখন কী দেখা যাচ্ছে? ইংলিশ মিডিয়ামসহ বিত্তশালী ছেলেরাও জঙ্গিবাদি কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে যাচ্ছে। কাজেই এগুলোর বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে।

(বি:দ্র:ফাইলছবি-তথ্য সংগ্রহকরা)

About admin

Check Also

সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ।।

অনলাইন ডেস্ক :    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *