Home / জাতীয় / দেশের নাগরিকদের প্রত্যেককে কর্মস্থলে ও বাসস্থানে গাছ লাগানোর আহ্বান-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা…

দেশের নাগরিকদের প্রত্যেককে কর্মস্থলে ও বাসস্থানে গাছ লাগানোর আহ্বান-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা…

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে মানবিক কারণে।আমাদের দেশে অবস্থান করছে ১১ লাখ রোহিঙ্গা।আগেই কিছু নষ্ট হয়েছিল পাহাড়ি বন,আর এখন তা প্রায় শেষ রোহিঙ্গাদের কারণে।প্রায় ধ্বংসের পথে যেখানে গভীর বন ছিল সেগুলো।সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু বনায়নও ধ্বংস হয়,ক্ষতি হয় পরিবেশও-মানব সভ্যতার যত বিকাশ হয় বা নগরায়ণ হয়।তাই বলে কিন্তু,উন্নয়ন কি চলবে না আমাদের,সভ্যতা কি থেমে থাকবে?থাকবে না থেমে।অবশ্যই এটা অব্যাহত থাকবে সভ্যতা এবং তার ক্রমবিকাশ।একটি বিষয় লক্ষ রাখতে হবে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সব ক্ষেত্রে,পরিবেশটাকেও রক্ষা করতে হবে আমাদের।উখিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ অতীতকে স্মরণ করে বর্তমানের সঙ্গে এর বিস্তর ব্যবধানের চিত্র তুলে ধরেন এ সময় তিনি।রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০১৯ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন আজ বৃহস্পতিবার সকালে।পরিবেশ, এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে,বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী নগরায়নের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে নতুন প্রকল্প গ্রহণকালে প্রাকৃতিক জলাধার সৃষ্টি ও তা সংরক্ষণ এবং অধিকহারে বৃক্ষ রোপণের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন,উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এটাও লক্ষ্য রাখতে হবে,যে কোনো প্রকল্পের সঙ্গে বৃক্ষ রোপণ করতেই হবে এবং জলাধার সৃষ্টি এবং জলাধার সংরক্ষণ করতে হবে।তিনি দেশের নাগরিকদের প্রত্যেককে কর্মস্থলে ও বাসস্থানে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে সন্তানদেরও এই পরিবেশবাদী কাজ শেখানোর পরামর্শ দেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন,উন্নয়নের বিরোধিতা করি না,সবাইকে অনুরোধ করবো আমাদের বিভিন্ন প্রজেক্ট নেয়ার সময় আমি দেখেছি যেখানে জলাধার রয়েছে সেটা ভরাট করেই বিল্ডিং তুলতে হবে।এটা করতে করতে ঢাকা শহরে যতগুলো খাল,পুকুর ছিল এখন আর তা নেই।প্রধানমন্ত্রী বলেন,পূর্বের সরকার তা শুরু করে দিল একটি সংস্থার পরামর্শে।কোন প্রয়োজন নেই আমাদের বক্স কালভার্ট করার।আমাদের খালগুলোকে ওভাবে রেখেই আমরা কিন্তু খালের দুই পার দিয়ে রক্ষা করতে পারি অথবা আমরা সেখানে এলিভেটেড রাস্তাও করে দিতে পারি।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,খাল যেখানে খালের মতই থাকবে।সেখানে নৌ চলাচলও করতে পারে তাতে আমাদের পরিবেশও রক্ষা পাবে,বায়ু দূষণ কমবে এবং সেখানকার বাতাসটাও আরামদায়ক হবে।সেখানে সেই পরিবেশটা থাকে না,যেখানে কোন গাছ থাকে না।আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে সেই বিষয়ে।

আরো বলেন-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,অবশ্যই অব্যাহত থাকবে সভ্যতা এবং তার ক্রমবিকাশ।আমাদের সর্বক্ষেত্রেই এই বিষয়টা লক্ষ্য রাখতে হবে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই যে,পরিবেশটাকেও রক্ষা করতে হবে আমাদের।সবাইকে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন প্রধানমন্ত্রী,নিজের কর্মস্থল ও বাসস্থানে গাছ লাগাবেন প্রত্যেকেই।একটি করে বনজ,ফলদ এবং ভেষজ গাছ লাগাবেন অন্তত।বৃক্ষরোপণ শেখাতে হবে ছেলে-মেয়েদেরও।প্রধানমন্ত্রী বলেন,গাছ লাগালেই হবে না শুধু,করতে হবে পরিচর্যাও।যতো ইচ্ছে গাছ লাগাবেন প্রত্যেকে নিজের এলাকায়।কয়েক বছর পর টাকাও পাওয়া যায় এতে,ফল পেলেও খুশি লাগে বছর বছর। আজিমপুর গার্লস স্কুলে পড়ার সময় বান্ধবীদের সঙ্গে নিয়ে গাছ লাগানোর স্মৃতিচারণও করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী বলেন-সুন্দরবন রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের কর্মসূচির কথা তুলে ধরে,পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন আমাদের সুন্দরবন।রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বড় ভূমিকা রয়েছে সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায়।অনেকে ভেতরে গিয়ে বনের ক্ষতি করার সাহস পায় না বনে বেশি বাঘ থাকলে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,নদীর লবণাক্ততা দূর করতে হবে সুন্দরবনকে রক্ষায়।হোগলা বন বেড়ে যায় লবণাক্ততা দূর হলে।বাঘের ব্রিডিং পয়েন্ট বাড়ে হোগলা বন বাড়লে।কাজ করা হচ্ছে সেইসঙ্গে নদীর নাব্যতা বাড়ানোর।পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে,বক্তব্য রাখেন-অনুষ্ঠানে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী,উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার,মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী প্রমুখ।পরিবেশ ও বনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় অনুষ্ঠানের শুরুতে।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু এওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন-২০১৯,বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার-২০১৮ ও সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশের চেক এবং একইসঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখার জন্য জাতীয় পরিবেশ পদক-২০১৯ প্রদান করেন।প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল থেকে গাজীপুরে শেখ কামাল ওয়াইল্ড লাইফ সেন্টারএবং পরিবেশ অধিদপ্তরের জন্য নতুন ভবনও উদ্বোধন করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ,প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ,সংসদ সদস্যবৃন্দ,সরকারের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তা,দফতর এবং বিভাগের প্রধানগণ,বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক-রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ,উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হলেও এ বছর ঈদুল ফিতরের কারণে দিবসটি পিছিয়ে গতকাল উদযাপন করা হয়।এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে বায়ুদূষণ-জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি।প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন বক্তব্য শেষে।বিআইসিসিতে একটি তেঁতুল গাছের চারা রোপণ করেন,প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে শেষে।

(বি:দ্র:ছবি ফোকাস বাংলা-তথ্য সংগ্রহকরা)

About admin

Check Also

সৌদি আরবে ওমরাহ হজে যাওয়া যাত্রীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা।।

অনলাইন ডেস্ক :    সৌদি আরবে ওমরাহ হজে যাওয়া যাত্রীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বিমান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *