Home / রাজশাহী / চারঘাটে মাদক সম্রাট ফেলালকে বাঁচাতে মিথ্যাচার।।

চারঘাটে মাদক সম্রাট ফেলালকে বাঁচাতে মিথ্যাচার।।

সংবাদদাতা: মোঃ সাইফুল ইসলাম রায়হান,চারঘাট রাজশাহী।

অনলাইন ডেস্ক:  কিছু পুলিশ সদস্য নিজ বাহিনীর ভাবমূর্তির উন্নয়ন ঘটিয়ে চলেছেন নিজস্ব মহিমায়। তাঁরই একজন নবীন চন্দ্র। চারঘাট মডেল থানায় পুলিশের এএসআই পদে কর্মরত রয়েছেন। মাদকের বিরুদ্ধে আপোষহীন একজন মানুষ। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে মাদক সম্রাট ফেলাল কে বাঁচাতে একটি মহল নবীন চন্দ্রের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার চালায়।

চারঘাট সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারনে এখানে মাদকের প্রভাব বেশি। কিন্তু (চারঘাট- বাঘার) বর্তমান সংসদ সদস্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করার পর থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা অনেকটা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। আর প্রতিমন্ত্রীর এই জিরো টলারেন্স বাস্তবায়ন করতে চারঘাট মডেল থানার ওসি সমিত কুমার কুন্ডুর নেতৃত্বে দিন রাত অবিরত ছুটে চলেছেন নবীন চন্দ্র।

মাদক সনাক্ত করনে তাঁর রয়েছে আলাদা অভিজ্ঞতা। জানা যায়,গত ৭ই সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধার দিকে ২০ পিচ ইয়াবাসহ মাদক সম্রাট ফেলাল উদ্দীন কে আটক করেন নবীন চন্দ্র। ফেলাল উদ্দীন বালাদিয়াড় গ্রামের বিশু মুন্সীর ছেলে। তার নামে চারটি মাদক মামলা রয়েছে।তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যাবসায়ী।তাকে গ্রেফতার করার পর থেকেই নানা রকম চাপ আসতে থাকে।

ফেলাল কে না ছাড়লে নবীনকে থানা ছাড়া করা হবে বলেও ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। ৭ ই সেপ্টেম্বর রাতে একই এলাকার আরেক মাদক ব্যাবসায়ী সাহাবুল আলীর বাড়িতে পিএসআই আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।এ সময় নবীন চন্দ্র চারঘাট থানাধীন শিশুতলায় ডিউটিতে ছিলেন। কিন্তু একটা পক্ষ নবীন চন্দ্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে।

তারা ফেসবুকে ফেলালের বউ এর বক্তব্য ভিডিও করে আপলোড করে।সেখানে নবীন চন্দ্র ফেলালকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৮০ হাজার টাকা দাবী করেন বলে জানান।আবার সাহাবুলের বাড়িতে রাতে অভিযানের সময় নবীন চন্দ্র তার সাহাবুলের বউ কে দরজা খোলার জন্য ডাকাডাকি করেন বলে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানো হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে এসব অপপ্রচারের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।স্থানীয়রা জানান,ফেলাল জেল থেকে বের হয়ে পুনরায় মাদক ব্যাবসা শুরু করেছেন।ফেলালকে প্রায় একশ মানুষের সামনে নবীন চন্দ্র ২০ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেন।আর সাহাবুলের প্রতিবেশীরা বলেন,সেদিন রাতে সাহাবুলের বাড়িতে অভিযানের সময় নবীন চন্দ্র সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

ফেসবুকে লেখালেখি এবং অপ্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে নবীন চন্দ্র বলেন, দেশের প্রতি ভালবাসা মাদক বিরোধী অভিযানে আমাকে বেশি উদ্বুদ্ধ করে। রাজশাহী জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্যার অত্যন্ত বিচক্ষন একজন ব্যক্তি।

স্যারের নির্দেশনায় ও চারঘাট মডেল থানার ওসি স্যার সমিত কুমার কুন্ডুর নেতৃত্বে চারঘাটকে মাদকমুক্ত করার লক্ষে অভিযান চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। কিন্তু সেটা কিছু মানুষ তাদের ব্যাক্তি স্বার্থে মাদক ব্যাবসায়ীদের রক্ষার্থে আমার নামে ফেসবুকে অপ্রচার করছে। ফেসবুক থেকে লেখাগুলো সরানোর জন্য আমাকে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে।

তবে যতকিছুই হোক, মাদকের সাথে আপোষ করবেন না বলে জানান তিনি। মাদক বিরোধী অভিযানে সফলতার জন্য তিনি চারঘাটের সাধারন মানুষের কাছে থেকে পেয়েছেন অকৃত্রিম ভালবাসা।

এএসআই নবীন চন্দ্র এর সম্পর্কে চারঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রায়হানুল হক রানা বলেন, চারঘাটের মানুষের কাছে নবীন চন্দ্র পরিচিত একটা নাম। সে মাদকের সাথে আপোষহীন একজন পুলিশ সদস্য। সে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। আর এ কারনে একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করে নবীনের চন্দ্রের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার করছে বলে জানান তিনি।

নবীন চন্দ্রের ব্যাপারে চারঘাট মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, চারঘাট মডেল থানার তরুণ সদস্যদের মধ্যে নবীন চন্দ্র মাদকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সক্রিয়। তার নামে অপপ্রচার সত্যিই দুঃখজনক। মাদক নির্মূলে নবীনের চন্দ্রের মত সক্রিয় আরো পুলিশ সদস্য দরকার।যত বাধাই আসুক চারঘাটে মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।

চারঘাট মডেল থানার ওসি সমিত কুমার কুন্ডু জানান, নবীন চন্দ্র ভাল কাজ করে ও বোঝে। আমার বিশ্বাস কাজের প্রতি তার একটা দায়বদ্ধতা নিয়েই সে সব কাজ করে। আর মাদকের ব্যাপারে চারঘাট মডেল থানায় সব সময়ই জিরো টলারেন্স ছিলো এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে জানান তিনি।

About admin

Check Also

তানোরে অ্যাসাইনমেন্ট বানিজ্য।।

সংবাদদাতা: আলিফ হোসেন-তানোর-রাজশাহী। অনলাইন ডেস্ক :    রাজশাহীর তানোরে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ফটোকপির দোকানগুলোতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *